
সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে দেশব্যাপী বিশেষ তদারকি অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। রোববার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ৩০ জেলায় ৪৪টি দল একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ১০২টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১০ লাখ ৩১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় এলপিজি নির্ধারিত দামে বিক্রি, ভোজ্যতেল ও ডিমসহ নিত্যপণ্যের মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ ও প্রদান এবং সঠিক ওজন নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হয়।
অধিদপ্তর জানায়, নিত্যপণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো এবং এলপিজি সিলিন্ডারে অতিরিক্ত দাম নেওয়া বন্ধ করতে এ অভিযান চালানো হয়েছে।
সাভারের আমতলা ও কুটুরিয়া বাজারের দুটি এলপিজি ডিলার প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম পাওয়ায় হাজি আব্দুর রহমান এন্টারপ্রাইজকে ১০ হাজার টাকা এবং ইকবাল এন্টারপ্রাইজকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে যথাযথভাবে ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ না করা, মূল্যতালিকার চেয়ে বেশি দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি এবং বিশেষ পাইপের মাধ্যমে গ্যাস স্থানান্তর করে ওজনে কারচুপির অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ সময় কারচুপিতে ব্যবহৃত বিশেষ পাইপ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিল-স্টিকার জব্দ করা হয়।
অভিযানে ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিক মজুত ও পণ্য সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করতে সতর্ক করা হয়।
ভোক্তাদের পণ্য কেনার আগে মূল্যতালিকা, সঠিক ওজন, সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ যাচাই এবং এলপিজি কেনার সময় ওজন, সিল ও দৃশ্যমান ত্রুটি পরীক্ষা করে রশিদ বা ভাউচার সংগ্রহের পরামর্শ দিয়েছে অধিদপ্তর। কোনো অনিয়ম বা প্রতারণার শিকার হলে হটলাইন ১৬১২১-এ অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে।
বাজারে শৃঙ্খলা, ন্যায্যমূল্য ও স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।